HomeUncategorizedআলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি অন্য প্রতিষ্ঠানকে হস্তান্তরের প্রতিবাদে অনির্দিষ্টকালীন ঘেরাও অবস্থান ও বিক্ষোভ

আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি অন্য প্রতিষ্ঠানকে হস্তান্তরের প্রতিবাদে অনির্দিষ্টকালীন ঘেরাও অবস্থান ও বিক্ষোভ

নিউজ ডেস্ক:

 

সংবাদপত্রে প্রকাশিত আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি অন্য প্রতিষ্ঠানকে হস্তান্তরের সিদ্ধান্তের খবর সম্পর্কে নিশ্চয়ই আপনি অবগত আছেন। এই খবর, আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান-প্রাক্তন ছাত্রছাত্রী, শুভাকাঙ্ক্ষীদের আহত করেছে। বর্তমানে আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের জন্য পর্যাপ্ত হোস্টেল নেই, নেই খেলার মাঠ-স্টাফ কোয়াটার। এতদসত্বেও, আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের জন্য খেলার মাঠ, হোস্টেল এর ব্যবস্থা না করেই, প্রস্তাবিত সেই একই জমির একটা অংশ অন্য প্রতিষ্ঠানকে দেওয়ার সংবাদপত্রে প্রকাশিত খবরে আমরা মর্মাহত।

ইতিমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে একদিকে গঠিত হয়েছে তদন্ত কমিটি, অন্যদিকে তদন্তের অজুহাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি অর্থ বর্ষের প্রাপ্য বাজেট নির্ধারিত অর্থ বন্ধ রাখা হয়েছে। আমরা চাই তদন্ত সঠিক প্রক্রিয়ায় এবং স্বচ্ছতার সঙ্গে হোক, তদন্ত কমিটির রিপোর্ট জনসমক্ষে প্রকাশ করা হোক। কিন্তু অতীতে তীব্র ছাত্র আন্দোলনের জেরে তদন্ত কমিটির দেওয়া ‘ফ্যাক্ট ফাইণ্ডিং কমিটি’র রিপোর্টের ভিত্তিতে আজ পর্যন্ত কোনও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে কিনা ছাত্রছাত্রীদের তা অজানা। আমরা আশঙ্কা করছি, এভাবেই আরও একটি কমিটি আর তার রিপোর্ট অকার্যকরী হয়েই থেকে যাবে? আর প্রাপ্য অর্থ না পাওয়ায় শিক্ষাক্ষেত্রে পরিকাঠামো জনিত প্রভূত ক্ষতির সম্মুখীন ছাত্রছাত্রীরা, তাদের ভবিষ্যতের দায় কে নেবে?

বাজেটে নির্ধারিত অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়কে না দেওয়ায় থমকে আছে শিক্ষার পরিকাঠামো তৈরির কাজ, থমকে প্রস্তাবিত জমিতে হোস্টেল ও খেলার মাঠ নির্মাণও। এমনকি সংখ্যালঘু দফতরের চরম উদাসীনতায় বন্ধ সংখ্যালঘু ছাত্রছাত্রীদের WBCS কোচিং। বিভিন্ন অজুহাতে ছাত্রছাত্রীদের স্কলারশিপ বাবদ বরাদ্দ অর্থও অনেককে দেওয়া হয়নি, বা আংশিক দেওয়া হয়েছে।

সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান অবস্থা এমনই যে বিদ্যুতের বিল, কর্মচারীদের বেতন দিতে অক্ষম এই প্রতিষ্ঠান। যা বৃহত্তর ছাত্র সমাজের কাছে যথেষ্ট চিন্তার বিষয়। সংখ্যালঘু দফতরের অধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের এত করুণ অবস্থা কেন এ প্রশ্ন নাড়া দেয় সাধারণ মানুষের বিবেককে।

৪ ঠা অক্টোবর ২০২১, বেলা ১২ টা থেকে অবস্থানের দীর্ঘ সময় পরেও সংখ্যালঘু দফতর ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কর্ণপাত না করাতে বাধ্য হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ও বর্তমান ছাত্রছাত্রীদের পক্ষ থেকে নিম্নলিখিত দাবিতে আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্ক সার্কাস ক্যাম্পাসে অনির্দিষ্টকালীন ঘেরাও অবস্থান ও বিক্ষোভ কর্মসূচী নেওয়া হয়েছে।

 

 

ছাত্রছাত্রীদের দাবি সমূহঃ

১) বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি কোনও অবস্থাতেই হস্তান্তর করা যাবে না, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের জমি হস্তান্তর না করার সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে জানাতে হবে। সংখ্যালঘু দফতরকেও জমি হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত ফেরাতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই জমিতেই অবিলম্বে ছাত্রছাত্রীদের জন্য খেলার মাঠ, ও হোস্টেল নির্মাণ করতে হবে।

২) কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো, বর্তমান শিক্ষাবর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্ত ছাত্রছাত্রীর ফি অবিলম্বে মুকুব করতে হবে।

৩) হোস্টেলে থাকা সমস্ত ছাত্রছাত্রীদের কনটিনিয়েশন দিতে হবে, নতুন ছাত্রছাত্রীদের জন্য হোস্টেল এর ব্যবস্থা কর্তৃপক্ষকেই করতে হবে। তালতলা ও পার্ক সার্কাস ক্যাম্পাসে আলাদাভাবে ছাত্র ও ছাত্রীদের জন্য চিপ ক্যান্টিন সহ হোস্টেল নির্মাণ করতে হবে।

৪) সংখ্যালঘু দফতরকে অবিলম্বে বাজেটে বরাদ্দ টাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে দিতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাণ্ডে থাকা টাকা ছাত্রছাত্রীদের কল্যাণে ব্যয় করতে হবে।

৫) থিয়োলজি সহ সমস্ত বিভাগে উপযুক্ত সংখ্যক শিক্ষক নিয়োগ করতে হবে। তালতলা ক্যাম্পাসে উপযুক্ত লাইব্রেরী, অন্যান্য সমস্ত ক্যাম্পাসে শিক্ষার সার্বিক পরিকাঠামো উন্নয়ন করতে হবে।

৬) কোনও অজুহাতেই ছাত্রছাত্রীদের স্কলারশিপ বঞ্চিত করা যাবে না, আবেদনকারী ছাত্রছাত্রীদের সকলকে প্রাপ্য স্কলারশিপ দিতে হবে।

৭) বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কর্মীদের অবিলম্বে বেতন মেটাতে হবে।

৮) অবিলম্বে বন্ধ হয়ে যাওয়া WBCS কোচিং, পুনরায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে শুরু করতে হবে।

 

 

আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, ২৫০ বছরের ঐতিহ্য, হাজার হাজার মানুষের আবেগ, বর্তমান ও প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীদের আশা-ভরসা-ভালোবাসার এই প্রতিষ্ঠান আজ চরম অবহেলার শিকার, সংখ্যালঘু দফতরের উদাসীনতায় প্রশ্নের মুখে হাজার হাজার ছাত্রছাত্রীদের জীবন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত রাখার লক্ষে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের পক্ষে আমাদের এই কর্মসূূচি‌।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments